তথ্য

পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার ও সাইবার হামলা

5views

২০১৫ সালের শীতে ইউক্রেনের ইলেক্ট্রিসিটি গ্রিডে সাইবার হামলা হয়েছিল৷ সে কারণে দুই লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিলেন৷ এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি অফিস, জার্মান সংসদ, ফ্রান্সের নির্বাচনে সাইবার হামলা হয়েছে৷

এই অবস্থায় ন্যাটোর শীর্ষনেতারা সোমবার ‘কম্প্রিহেনসিভ সাইবার ডিফেন্স পলিসি’তে সই করেছেন৷ এতে বলা হয়, ন্যাটোর সদস্যরাষ্ট্রের কোনো একটিতে সাইবার হামলা হলে তা সবার উপর হামলা বলে বিবেচনা করা হবে৷

‘ফিউচার ওয়ার্স – অ্যাণ্ড হাও টু প্রিভেন্ট দেম’ বা ‘ভবিষ্যতের যুদ্ধ – কীভাবে সেগুলো থামানো যায়’ শিরোনামে ডয়চে ভেলে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছে৷ সেখানে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সাইবার হামলার কারণে সাধারণ নাগরিকদের জীবনে কীভাবে সমস্যা তৈরি করা যায়, এতদিন সেটা বিশ্ব দেখেছে৷ তবে এই হামলার লক্ষ্য যদি পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারে হয় তাহলে তার পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারে৷

ওয়াশিংটনের ‘কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের’ নিউক্লিয়ার পলিসি প্রোগ্রামের উপ-পরিচালক জেমস অ্যাক্টন বলছেন, ‘‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়- এবং এ নিয়ে আলোচনা খুবই কঠিন, কারণ এটা খুব গোপন একটা বিষয়৷”

‘নিউক্লিয়ার কমাণ্ড অ্যাণ্ড কন্ট্রোল সিস্টেমস’এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা হয়৷ ‘‘এই সিস্টেম এখন অ্যানালগের চেয়ে ডিজিটাল সংকেত, অর্থাৎ আইপি-বেজড অপারেটিং সিস্টেমের উপর বেশি নির্ভর করছে,” বলে জানান জেমস অ্যাক্টন৷ এটি একটি বড় সমস্যা বলে মনে করেন তিনি৷ ‘‘পুরনো সিস্টেমে সাইবার হামলা হওয়া সম্ভব ছিল না, কারণ সেখানে কোড ব্যবহার করা যেত না,” বলেন অ্যাক্টন৷

আরেকটি আশঙ্কার কথাও বলছেন তিনি৷ যুক্তরাষ্ট্রের নিউক্লিয়ার কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেমগুলো এখন পরমাণু অস্ত্র ছাড়াও প্রচলিত অন্য অস্ত্র নিয়েও কাজ করে বলে জানান অ্যাক্টন৷ সে কারণে দুটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে৷ এক, এসব সিস্টেমের উপর হামলার আশঙ্কা আরও বেড়ে গেছে৷ দুই, কেউ এসব সিস্টেমে হামলা করলে সেটা প্রচলিত অস্ত্র নাকি পরমাণু অস্ত্রের উপর হামলার চেষ্টা, তা বের করা কঠিন৷ ফলে মার্কিনিরা যদি ভুল করে মনে করে যে, হামলাটি পরমাণু অস্ত্রের উপর হতে যাচ্ছে তখন তারাও সেভাবে প্রতিক্রিয়া জানানোর চেষ্টা করবে৷ সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অ্যাক্টন৷

এই অবস্থায় বুধবার জেনেভায় বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন৷ সেখানে এই দুই নেতা সাইবার যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন৷ উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের শীতে ইউক্রেনের ইলেক্ট্রিসিটি গ্রিডে সাইবার হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র৷

Leave a Response